নেটপ্রভাবীদের করা রিল দেখে চুলের যত্ন নিচ্ছেন? সেই টোটকায় আদৌ কাজ হবে তো?

26th February 2024 11:26 pm Country News
নেটপ্রভাবীদের করা রিল দেখে চুলের যত্ন নিচ্ছেন? সেই টোটকায় আদৌ কাজ হবে তো?


নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের কাছেই ভাল চুলের কদর সমান। তাই চুল পড়তে শুরু করলেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করে। ত্বকের মতো চুল ভাল রাখতেও কিন্তু যত্নের প্রয়োজন। চুলের যত্ন মানেই যে তা খুব খরচসাপেক্ষ, তা কিন্তু নয়। নামীদামি প্রসাধনী ব্যবহার করতে চান না বলেই রাত জেগে রিল দেখেন। নেটপ্রভাবীরা প্রাকৃতিক নানা উপাদান দিয়ে হরেক রকম তেল তৈরি করতে শেখান। সেই তেল মেখে তাঁদের কতটা উপকার হয়েছে সে কথাও জানান। কিন্তু সেই একই পদ্ধতি যে আপনার ক্ষেত্রেও খাটবে, তার কোনও মানে নেই। তাই চুল পড়া রুখতে গেলে ঘরোয়া টোটকা নয়, নিজের মাথার ত্বক এবং চুল ধোয়ার টুকিটাকি বিষয় সম্বন্ধে কয়েকটি ব্যাপার আগে জেনে রাখা জরুরি।

১) চুল ধোয়ার পদ্ধতিতে বদল:

 

চুলের জন্য খুব গরম জল খারাপ। তা চুলকে আরও রুক্ষ করে তুলতে পারে। তাই ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করা যেতে পারে। আবার যদি প্রয়োজন না পড়ে, তা হলে খুব বেশি শ্যাম্পু ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ, বেশি শ্যাম্পু করলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের পরত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

২) টোটকাই সব নয়:

 

ইনস্টাতে দেখানো সব টোটকাই যে খারাপ, তা নয়। তবে মুখের মতো সকলের মাথার ত্বকও আলাদা। তাই সকলের জন্য সব টোটকা কাজ না-ও করতে পারে। তাই সেই সব টোটকা ব্যবহার করার আগে চুল এবং মাথার ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া জরুরি। শুধু টোটকাই নয়, চুল আঁচড়ানো থেকে চুলের প্রসাধনী— সবই চুলের ধরন অনুযায়ী আলাদা হবে।

 

৩) রোজ শ্যাম্পু নয়:

 

শ্যাম্পু করলে চুলের ধরন বদলে যায় ঠিকই। তবে রোজ শ্যাম্পু করা চুল বা মাথার ত্বক— দুইয়ের জন্যেই খারাপ। কারও চুল বা মাথার ত্বক যদি খুব তৈলাক্ত হয়, সে ক্ষেত্রে এক দিন অন্তর চুলে শ্যাম্পু করা যেতে পারে। চুল বা মাথার ত্বক খুব রুক্ষ এবং শুষ্ক হলে সপ্তাহে দু’বার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট।

৪) চুলের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনী:

 

কোনও প্রসাধনী মেখে বন্ধুর চুলের মান ভাল হয়েছে বলেই যে সেই সব জিনিস আপনার কাজে লাগবে, এমনটা কিন্তু নয়। প্রত্যেকের মাথার ত্বক এবং চুলের ধরন আলাদা। তাই সেই অনুযায়ী প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে। চুল বা মাথার ত্বকের ধরন নিজে বুঝতে না পারলে অবশ্যই অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিতে হবে।

 

৫) শুধু বাইরে থেকে চর্চা নয়:

 

চুল বা ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে আনতে শুধু বাইরে থেকে চর্চা করলে হবে না। পুষ্টিকর খাবার, ফল যেমন খেতে হবে, তেমন নিয়মিত শরীরচর্চাও করতে হবে। রোজ মাথার ত্বকে মাসাজ করতে পারলেও ভাল হয়।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।